Thursday, April 26, 2012

”তুই ব্যাটা ১৫ টাকার উদ্যোক্তা তোর আবার কথা কিসের” একজন সচিবের এই উক্তিতে সচেতন ব্লগারের মতামত কাম্য


মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম:
 
 
প্রথমেই আপনাদের জ্ঞাতার্থে লিখছি দয়া করে ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়ুন। সচিব সম্পর্কে কেন লেখা হয়েছে তা দেখুন। আর উনি কিন্তু আমার কেন্দ্রের সচিব নয়। আমার সচিব অনেক ভালো মনের মানুষ

বন্ধুরা আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি মনির কেন ব্লগে নিয়মিত থাকছি না? ইউআইএসসিতে এসে আমার এমন কোন দিন ছিল না যে দিন ব্লগে কিছু লিখি নাই। কিন্তু বেশ কিছু কারও ব্লগ ফিচার করে অন্যদের মতামত নিতে কর্তৃপক্ষ যে ধীরগতি অবলম্বন করছে তাতে অনেকেরই ব্লগ লিখতে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব লাগছে যে, এত কষ্টের লেখা ব্লগ সবার মতামতের জন্য ফিচার হবে তো?
যেই হোক ডিজিটাল বাংলাদেশের কান্ডারীরা আজ নয় ইউআইএসসি স্থাপনের শুরু থেকেই ইউপি সচিবদের কাছে বারবার বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে, তার প্রমান ব্লগ শুরু প্রথম দিকে আমিন বাজারের এক সচিবের বদলি বিষয়ক মানিক স্যারের লেখা ব্লগ থেকে দেখা যায়। বন্ধুরা আমি কোন দিন কোন ইউপি সচিবদের নিয়ে লিখব ভাবিনি, এই কারনে আমার সচিব সবসময় আমাকে আন্তরিক ভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে কয়েকদিন পূর্বে একজন ইউপি সচিবের উক্তি নিয়ে ব্লগে না লিখে পারছি না । আশা করি আমার এই ব্লগটি যাদের নজরে আসবে তারা তো গঠন মূলক কমেন্ড করবেনই পাশাপাশি অন্য উদ্যেক্তা বন্ধুকে এই ব্লগটি নিয়ে মতামত দিতে বলবেন। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কিছু কিছু সচিবের কাছে কত অসহায় তা অনেক উদ্যোক্তাই ঐ সচিবের উক্তি থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন। ঐ ইউপি সচিবের উক্তি-"তুই ব্যাটা ১৫ টাকার উদ্যোক্তা তোর আবার কথা কিসের”।এই উক্তি নিয়ে সচেতন ব্লগারের বস্তুনিষ্ঠ কমেন্ড চাই।

 
অনেক বন্ধুর ফোন এবং কমেন্ডের কারনে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হল-

জেলা ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা”২০১২ উপজেলার স্টল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। আমার সাথে অন্য তথ্য সেবা কেন্দ্রের দুইজন উদ্যোক্তাও দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়। মেলার প্রথম দিনের মাঝমাঝি অবস্থায় একজন সচিব কেন্দ্রে আসে। তার সাথে সৌজন্যমূলক কুশল বিনিময় হয়। সচিব আমার পরিচিত নয় কিন্তু আমার সাথে ”তুই তুই” ব্যবহার করায় আমি অধিকাংশ সময় স্টলের বাহিরে কাটাই। এক পর্যায়ে স্টলে এসে দেখি সচিব সেবার তালিকা লিখছে। তালিকার এক অংশে লিখছে ছবির মাধ্যমে কথা বলা যায়। তো আমি বললাম সচিব সাহেব ওখানে ছবির মাধ্যমে কথা বলা যায় হবে না, হবে ছবি দেখে দেখে ভিডিও কনফারেন্স করে কথা বলা যায়। তখন সচিব বলে আমার চেয়ে তুমি বেশি জানো? আমি তখন বললাম হ্যাঁ কারন আমি তো কেন্দ্র চালাই আর আপনি ইউনিয়ন পরিষদ চালান এরপর কথা না বাড়িয়ে বাহির চলে যাই। উনি ওনার মতো করে লিখে টানিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে সম্মানিত ডিডিএলজি স্যার মেলার স্টল মূল্যায়নের জন্য পরিদর্শনে এলে ঐ সচিব তাকে বলে স্যার এখানে যে মালামাল আছে সবগুলো আমাদের কেন্দ্র থেকে আনা বাকী কেন্দ্রগুলো থেকে কিছুই আনেনি। এখানে উল্লেখ্য যে, একজন ”উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যেক্তা” যাতে তার কেন্দ্রের উদ্যেক্তা হয় সে কারনেই ডিডিএলজি স্যারের কাছে তার কেন্দ্রে সুনামের কথা বলা হয়েছে। ডিডিএলজি স্যার যাওয়ার পর তাকে বললাম ঐ কথাগুলো স্যারের সাথে বলার দরকার কি ছিল তখন সে উল্টাপাল্টা বললে আমি আর কোন কথা বাড়াই না। অতঃপর মেলা শেষে যখন বাসায় ফিরে যাচ্ছি তখন আমি এবং পাশের উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যেক্তা একই গাড়ীতে বাসায় যাচ্ছি সেই গাড়ীতে যে ঐ সচিব ছিল তা রাত হওয়ার কারনে আমরা দেখতে পাইনি। গাড়ীতে বসে আমরা বিভিন্ন কথার ফাঁকে যখন বললাম মহিউদ্দিন আমাদের স্টলে বসে ঐ সচিব যে আচরন করল তাতে মনে হয় মেলার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ইউএনও স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করতে হবে স্টলের দায়িত্ব কি সচিবকে দেওয়া হয়েছে? তখনই ঐ সচিব পিছন থেকে বলে এই তুই কি বলবি স্যারের কাছে তোর ঘাড় ধরে গাড়ী থেকে ফেলে দেব, মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে তখন পাশের উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা প্রতিবাদ করলে তার সাথেও খারাপ আচরন করে। এক পর্যায়ে বলে”তুই ব্যাটা ১৫ টাকার উদ্যোক্তা তোর আবার কথা কিসের” তোরা কি পাশ করেছিস? এরপর এ নিয়ে আমরা আর কোন কথা বলি না কিন্তু সে তার ইচ্ছা মতো বলে চলে যায়।


বাউফল উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যেক্তা
কাছিপাড়া ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র
বাউফল,পটুয়াখালী
০১৭১০৪৯৮২৯১

No comments:

Post a Comment